মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে 'স্যার' না বলায় ওষুধ না দেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক


নিজস্ব সংবাদদাতা: মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। অভিযোগ, ওষুধ বিতরণ কাউন্টারে কর্মরত এক ব্যক্তিকে 'স্যার' বলে সম্বোধন না করায় এক মহিলা রোগীকে ওষুধ দেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।


Murshidabad Medical College


ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওই মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে তিনি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও ওষুধ পাননি। তাঁর দাবি, কাউন্টারে থাকা কর্মীকে 'স্যার' না বলার কারণেই তাঁকে অপেক্ষা করানো হয়। পরে তিনি 'স্যার' বলেও সম্বোধন করেন, কিন্তু তাতেও ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না। আবার অন্য একটি অংশের মত, একটি ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে পুরো ঘটনা বিচার করা ঠিক নয়। তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসা উচিত।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল-কাম-মেডিক্যাল সুপার জানান, ভাইরাল ভিডিওটি সামনে আসার পর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে হাসপাতালের নিয়ম মেনে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি হাসপাতালের রোগী পরিষেবা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের অপেক্ষা চলছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। নতুন তথ্য বা সরকারি বিবৃতি সামনে এলে সেই অনুযায়ী এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post