যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে উত্তেজনা, মহিলা আন্দোলনকারীকে চড় মারার অভিযোগে ভাইরাল ভিডিও

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি দমননীতি, নারী বিক্ষোভকারীকে চড় মারার অভিযোগে বিতর্কে অতিরিক্ত ডিসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদন : নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। ছাত্র ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র হাজার হাজার সমর্থক পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ফলাফল— কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, আটক এবং শতাধিক আহতের ঘটনা।


যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে উত্তেজনা, মহিলা আন্দোলনকারীকে চড় মারার অভিযোগে ভাইরাল ভিডিও


আন্দোলনের মূল দাবি কী

মে মাসে ডিজিটাল কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকের হাত ধরে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। নিট-স্নাতক প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। জুন মাসের শেষে লাদাখের পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসার পর এই আন্দোলন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

সংঘর্ষের দিন কী ঘটেছিল

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনেই সিজেপি সমর্থকরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন অভিমুখে হাঁটা শুরু করেন। পুলিশ একাধিক স্তরে ব্যারিকেড বসিয়ে ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের আশ্রয় নেয়। দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জন নিরাপত্তারক্ষী এবং বাকিরা বিক্ষোভকারী। প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

চড় মারার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

সংঘর্ষ চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে একটি দৃশ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডিসিপি সন্দীপ লাম্বা এক নারী বিক্ষোভকারীর গালে চড় মারছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগ জোরালো হয়েছে। পাল্টা যুক্তি হিসেবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের সময় লাম্বার হাঁটুতেও আঘাত লেগেছিল।

দিল্লি পুলিশ অবশ্য নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বিবৃতিতে বাহিনীর দাবি, বিক্ষোভ পরিস্থিতি ‘পেশাদারিভাবে’ সামলানো হয়েছে এবং কোনও ধরনের বাড়াবাড়ির ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পেরেক লাগানো লাঠি সংক্রান্ত একটি ভিডিওকেও ভুয়ো বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে একাধিক সাংবাদিক দাবি করেছেন, নিজেদের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও কভারেজের সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে এবং কাউকে কাউকে আটকও করা হয়েছে।

আন্দোলন এখনও চলছে

পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের তরফে সীমিত পরিসরে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তাতে সন্তুষ্ট নন। সংগঠনের নেতৃত্ব জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা আপাতত রাজপথে নতুন করে মিছিল না করলেও যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবেন, যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। গত ২৮ বছরে দেশে প্রায় সাড়ে তিনশোর বেশি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি, যা তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে।

South DN Prime Desk

South DN Prime-এর প্রতিষ্ঠাতা, মালিক ও সম্পাদক। নির্ভুল, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।Platformfacebookinstagram

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post